বালু ভাঙার কারণে খোয়াই নদী সংকটে পড়েছে

বালু ভাঙার কারণে খোয়াই নদী সংকটে পড়েছে, ইজারার শর্ত বিবেচনা না করে বালু উত্তোলনের কারণে হবিগঞ্জের খোয়াই নদী সংকটে পড়েছে।

দিনরাত বালু উত্তোলন ও শ্যালো মেশিন ব্যবহার অব্যাহত থাকায় নদীর বাঁধ ও সেতুগুলো ইতিমধ্যেই ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও খবর পেতে ভিজিট করুনঃ newsallw.com

বালু ভাঙার কারণে খোয়াই নদী সংকটে পড়েছে

ইজারার শর্ত ভঙ্গ করেও প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলনে জড়িত থাকায় প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোয়াই নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গারো পাহাড়ের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এটি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার থেকে শুরু হয়েছে নদী ধ্বংসের কাজ।

সেখান থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত ৩৬৪ একর বালি মহল ইজারা দিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

নিয়ম অমান্য করে এসব এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

শহরের এক স্কুলশিক্ষকের কথায়, নদীতে শকুন ধরা পড়েছে। নদী বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসছে না।

তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খোয়াই নদীর স্যান্ডপিট ইজারার শর্তে বলা হয়েছে, বালির পিট ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো উপায়ে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা যাবে না।

বালু ভাঙার কারণে খোয়াই নদী সংকটে পড়েছে

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

নদীর ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ, মাছ, জলজ প্রাণী বা গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেলে বা বিলুপ্তির আশঙ্কা থাকলে বালু উত্তোলন করা যাবে না।

নদীর চৌধুরী বাজার পয়েন্ট থেকে শায়েস্তাগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শন করা হয়।

নদীতে বসানো হয়েছে শতাধিক পাম্প শ্যালো মেশিন।

নিষিদ্ধ ড্রেজার ও শ্যালো মেশিনের সাহায্যে দিনরাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

ইজারাদাররা বালু উত্তোলনের কোনো শর্তই মানছে না। বালির বাঁধে নদীর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শ্যালো মেশিনের চালক রুবেল মিয়া জানান, এসব দিয়ে নদীর গভীর থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

এই মেশিনগুলো বেশি বালি পায়। সেজন্য এই মেশিন ব্যবহার করা হয়।

খোয়াই নদীর পশুর হাট, চৌধুরী বাজার, নোয়াবাদ, পূর্ব শ্যামলী, ইনাতাবাদ, মাছুলিয়া, মাছুলিয়া ব্রিজ এলাকা, তেঘরিয়া, ভাদাইসহ অর্ধশতাধিক স্থানে বালুবাহী ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

কেউ বালি নিয়ে যাচ্ছে

ট্রাক্টর চালক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদী থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন শতাধিক ট্রাক্টর বালু বোঝাই হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাক্টর ১০০ থেকে ১২০ ঘনফুট বালি বহন করে।

এছাড়া ছোট ট্রলি ও গাড়িতে করে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক বালু পরিবহন করা হয়।

সব মিলিয়ে খোয়াই থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে বালু বহনকারী ট্রাক্টরসহ অন্যান্য যান চলাচলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

এসব স্থানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

শায়েস্তানগর খোয়াই বাঁধ এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, ভোর থেকে বাঁধের ওপর দিয়ে বালু বহনকারী ট্রাক্টর চলাচল শুরু হয়।

নদীর পাড় থেকে বালু উত্তোলনের ফলে তাদের বাড়ির পাশের নদীর বাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বালু ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত

জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, খোয়াই নদীর বালুমহাল ১৪২৮ খ্রিস্টাব্দে ইজারা নেন মকসুদ আলী নামে এক ব্যক্তি।

১ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ইজারা নেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মকসুদ আলী বলুমহাল ইজারা দিলেও এর সঙ্গে জড়িত ছিল স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা।

নিজে বালু উত্তোলন না করে শতাধিক লোককে সাব-লিজ দিয়েছেন। তারাই বিভিন্ন জায়গায় বালু তৈরির মেশিন বসিয়ে দিচ্ছে।

বালু ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, খোয়াই নদীর বালুচরে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার বালু বিক্রি হয়।

ইজারাদার মাকসুদ আলী স্বীকার করেছেন, বালুম মহল তার নামে ইজারা দেওয়া হলেও স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিবিদ তার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন।

তবে তাদের নাম জানাতে রাজি হননি তিনি

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, তারা বরাবরই নদী ইজারা না দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। তারপরও তারা ইজারা দিচ্ছে।

এ নদী ইজারা দিয়ে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে তার ১০ গুণ হারাচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, “আমরা সব সময় জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।

শুধুমাত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতই পারে নদীর বাঁধ রক্ষা করতে।’

জেলা প্রশাসক ও জেলা বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইশরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সব সময় ইজারাদারদের নিয়ম মেনে বালু তোলার আহ্বান জানান।

ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা যাবে না। ইজারাদার কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

About admin

Check Also

২০০৮ সাল থেকে ফরিদপুরে কোনো রাজনীতি ছিল না

২০০৮ সাল থেকে ফরিদপুরে কোনো রাজনীতি ছিল না

২০০৮ সাল থেকে ফরিদপুরে কোনো রাজনীতি ছিল না, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেছেন, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.