জাতীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি

জাতীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি, একই সঙ্গে দলটি ‘সরকার সরান’ আন্দোলন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং তারপর রাজপথের অংশীদারদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের রূপরেখা নিয়ে একটি কর্মসূচির খসড়া তৈরি করছে।

আরও খবর পেতে ভিজিট করুনঃ newsallw.com

জাতীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি

ঈদুল ফিতরের পর বিএনপি যাবে অন্যান্য সমমনা ও গণতন্ত্রপন্থী দল ও সংগঠনের কাছে।

দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে যে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে চাইছে,

তার ভিত্তি হবে ‘নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় সরকার’ ধারণা। বটম লাইন হলো, এটা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন নয়,

রাজনৈতিক দলগুলোকে নীতিগত ঐক্যে আনার জন্য।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আন্দোলন, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় সরকারের জন্য যে রাজনৈতিক রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে তা হবে ‘পরিবর্তনের কর্মসূচি’।

যেখানে সংবিধান, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কারে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্রে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এটি করা হচ্ছে।

জাতীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সরকারের রূপরেখা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে দলের একাধিক উচ্চপর্যায়ের নেতা কাজ শুরু করেছেন। ঈদের আগে তৈরি করা যাবে।

বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি পেশাজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে খসড়ার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবে।

এরপর রূপরেখা ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন,

একজনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তাদের সবার মতামতের ভিত্তিতেই আগামীতে দেশ পরিচালিত হবে। নিরপেক্ষ সরকার।”

গত ২৯ মার্চ লন্ডনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সরকারের নতুন ভাবনার কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. ধারণা হচ্ছে, অবাধ ও

সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপিসহ আন্দোলনকারী দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তাদের সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে।

তারা হেরে গেলেও সরকারে থাকবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে জাতীয় ঐক্যমতের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।

দেশে অনেক ছোট দল আছে, যাদের অনেক যোগ্য নেতা আছে, তারা নির্বাচনে না জিতলেও আমরা তাদের জাতীয় সরকারে নেব। ‘

বিএনপি সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দল জাতীয় সরকারের ধারণা নিয়ে এখনো সাড়া দেয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও এ ব্যাপারে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন।

তবে বিএনপির প্রস্তাবিত জাতীয় সরকারের প্রধান কে হবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্দোলনকারী দলগুলোর মধ্যে সরকার প্রধান হবেন বড় দল থেকে।

তবে এখনই ঘোষণা করা হবে না। সরকার পতন হলে বা সরকার পদত্যাগে বাধ্য হলে সরকারপ্রধানের নাম ঘোষণা করা হবে।

এখন জাতীয় সরকারের নতুন ধারণা মাথায় রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন বিএনপি নেতারা।

এসব কার্যক্রম সুষ্ঠু করতে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ২০ এপ্রিলের ইফতার কর্মসূচি বাতিল করেছে বিএনপি।

সেই ঐক্যের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দলের একজন উচ্চপদস্থ নেতা বলেন, ইফতারে কারও উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন কোনো ভুল বার্তা না যায় সেজন্য অনুষ্ঠানটি করা হচ্ছে না।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সব বিরোধী দলকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার চেষ্টা করে আসছে।

এ লক্ষ্যে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সহযোগী দলগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাসডিসহ অন্তত ৩০টি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলটির নীতিনির্ধারণী নেতারা।

যদিও এখন পর্যন্ত সেই ঐক্যের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার বা নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার; এ নিয়ে জোটের নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

জাতীয় সরকারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আবদুর রব ও ২০ দলীয় জোট নেতা অলি আহমেদ।

তাদের আগে জাতীয় সরকারের পক্ষে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনে বিএনপির প্রস্তাব ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী।

About admin

Check Also

ছাত্রদলের সভাপতি ১৩ বছর বাড়ি যাননি

ছাত্রদলের সভাপতি ১৩ বছর বাড়ি যাননি

ছাত্রদলের সভাপতি ১৩ বছর বাড়ি যাননি, যশোরের ছেলে কাজী রওনাকুল ইসলাম (শ্রাবণ) বিএনপির ছাত্র সংগঠন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.